পেঁয়াজের রসের অজানা উপকারিতা

0
334
আমাদের খাবারে পেঁয়াজ কাঁচা বা রান্নায় যোগ করে যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন এটি সবসময়ই স্বাদ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পেঁয়াজ টুকরো করে, কুচি করে, গুঁড়ো করে বা পেস্ট করে যেভাবেই আমরা ব্যবহার করি না কেন এর একটি অসাধারণ স্বাদ আমরা পেয়ে থাকি যেকোনো কিছুতেই। ভারতসহ আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরের এক অবিচ্ছেদ্য উপাদান এই পেঁয়াজ। অথচ আমরা না বুঝে বা না জেনেই এই পেঁয়াজ বা পেয়াজের রসের অবিশ্বাস্য উপকারিতা পেয়ে যাচ্ছি।
অখ্যাত এই পেঁয়াজের বহুমুখী গুনাগুনের কথা খুব একটা স্বীকৃতি পায়নি। যেখানে অন্যান্য ফল ও সবজিতে থাকা ভিটামিন ও মিনারেলের কথা খুব সহজে প্রকাশ পায় সেখানে পেঁয়াজের কথা খুব কমই উল্লেখ করা হয়।তাই আমাদের উচিত বহুল ব্যবহৃত এই কন্দটির গুনাগুন জানা এবং এর স্বীকৃতি দেয়া। পেঁয়াজ ভিটামিন এ, বি ও সি সমৃদ্ধ।এটি ফোলিক এসিডেরও একটি ভালো উৎস।এছাড়া এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সালফার, আয়রন ও ক্রোমিয়ামও রয়েছে। পেঁয়াজে এত পুষ্টি উপাদান থাকার পর এর উপকারিতা নিয়ে কোন সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। তাই আমাদের দেহে কাঁচা পেঁয়াজের রসের কিছু উপকারিতা এখানে তুলে ধরা হলো-
হৃদপিন্ডের সংবহনতন্ত্রের উপকারিতা- খাবার সাথে পেঁয়াজ যোগ করে অথবা পেঁয়াজের রস খেলে এটি রক্ত জমাট বাধা প্রতিরোধ করে।এটি ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া এবং হৃদরোগসহ নানা রকম রোগ প্রতিরোধ করে। পেঁয়াজ হোমোসিসটেইনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং যেকোনো হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।
প্রদাহনাশক- পেঁয়াজে রয়েছে প্রদাহনাশক গুনাগুন, যার ফলে এটি আর্থ্রাইটিস ও গেঁটে বাত প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
জীবাণুনাশক- পেঁয়াজের জীবাণুনাশক গুনাগুনের জন্য এটি ই-কোলাই ও স্যামোনেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও cystitis ধরনের মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণের জন্য পেঁয়াজের রস বেশ উপকারী।
এলার্জি প্রতিরোধে- পেঁয়াজে থাকা Quercetin নামক এন্টিহিস্টামিন অ্যাজমার জন্য উপকারী। এছাড়া পেয়াজে থাকা Quercetin অন্য যেকোন ধরনের উৎস থেকে প্রাপ্ত Quercetin থেকে তুলনামূলকভাবে সহজে শোষণ হয় এবং রক্তের চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
শ্বসনতন্ত্রের রোগ- ঠাণ্ডা কাশির মতো সাধারণ রোগের ক্ষেত্রেও সেরা ঘরোয়া প্রতিকার হচ্ছে পেঁয়াজের রস। পেঁয়াজের মাঝে থাকা তেল শুধুমাত্র শ্লেষ্মা কমাতেই সাহায্য করে না সাথে সাথে তা প্রতিরোধও করে। এটা ব্রংকাইটিস, রক্ত জমাট বাধা এবং বিপাকীয় সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্যও বেশ উপকারী।
অস্টিওপোরোসিস- পেঁয়াজ ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। গবেষণায় দেখা গেছে যে পেঁয়াজের মাঝে এমন একটি উপাদান রয়েছে যা হাড়ের ক্ষয় রোধ করে তাই পেঁয়াজ আমাদের দেহের হাড়ের রক্ষণাবেক্ষনে সাহায্য করে এবং অস্টিওপোরোসিস বা অস্থিক্ষয় রোগ প্রতিরোধ করে।
মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায়- নিয়মিত পেঁয়াজ মুখে নিয়ে চিবিয়ে খেলে দাঁতের ক্ষয় এবং মুখের ভেতরের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই সালাদের মাঝে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে মুখের ভেতরের জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এবং মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে- পেঁয়াজে থাকা ক্রোমিয়াম ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে এবং গ্লুকোজ সহনশীলতার মাত্রাকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
কানের ব্যাথা দূরীকরণে- কানের ব্যাথায় পেঁয়াজের রস কানে লাগালে ব্যাথা দূর হয়। পেঁয়াজে থাকা এসেন্সিয়াল অয়েলের জন্য সেটা হয়ে থাকে। খুব ভালো হয় যদি পেঁয়াজ চুলায় সেঁকে নিয়ে বা সেদ্ধ করে নিয়ে রস বের করে সেটা কুসুম গরম অবস্থায় কানে দেয়া যায়।
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ- হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে পেঁয়াজ একটি খুব ভালো ঘরোয়া প্রতিকার হতে পারে। তাই ওই সময় কাঁচা পেঁয়াজের রসের সাথে চিনির মিস্রি মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এছাড়া পেঁয়াজের রস পায়ের পাতায় ঘষলেও বেশ উপকার পাওয়া যায়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY